আউটসোরচিং কেস স্টাডি এবং মন্তব্য

সবাইকে আমার নমস্কার, আমি সুখেন তনচংগ্যা। বর্তমানে এসইও এবং এফিলিয়েট মার্কেটিং এর উপর কাজ করি। এখানে বর্তমান সময়ে ফ্রিল্যান্সিং জগতে কি চলতেছে এবং কিভাবে কি হচ্ছে তা নিয়ে আপনাদের কিছু ধারণা দেবো।

সংক্ষেপে কিছু জেনে নিন, আমি ছাত্র জীবনে সবচেয়ে কাচা ছিলাম ইংলিশে এবং এই বিষয়টিতে আমার কখনোই ১০ নাম্বারের বেশি রেজাল্ট আসতোনা এতটাই কাচা ছিলাম, কিন্তু আজকে আমি সম্পূর্ণ ইংলিশের উপর কাজ করে মোটামোটি একটা পর্যায়ে চলে এসেছি। এখন এক পর্যায়ে আমি বাংলা তেমন লিখতে পারিনা ইংলিশের উপর এতটা কাজ করতে হয় যে। ইংলিশে যেকোন কিছু গুছিয়ে লিখতে পারি, কিন্তু বাংলায় তা ভালভাবে লিখতে পারিনা, সেটা কেন জানিনা। যায়হোক আপনি আমার এই আর্টিকেল টা পুরো পড়বেন শুরু করার আগে।

২০০৮ এ যখন ফ্রিল্যান্সিং শুরু করেছিলাম তখন ডাটা এন্ট্রি করতাম, দেড় মাস মত করেছিলাম, এরপর গ্রাফিক্স ডিজাইন এর উপর কাজ করি ওডেস্ক-এ (বর্তমান upwork.com) যেহেতু গ্রাফিক্স ডিজাইন পারি, টানা কয়েকমাস কাজ করেছিলাম এবং ভাল উপার্জন ও করেছিলাম, কিন্তু কিছু ফ্রড বায়ারের কারনে গ্রাফিক্স ডিজাইন থেকে অন্য কিছু করার চেষ্টা করি এবং সেটা পেয়ে ও যায়। নিজের সম্পর্কে বলা হয়তো বাংলা ভাষায় গোঁয়ার্তুমি হতে পারে, তারপর ও জেনে নিন আমি ভেজাল ব্যপার গুলো পছন্দ করিনা এবং বিশেষ করে যেখানে ফিউচার নেই, সেজন্য গ্রাফিক্স ডিজাইন এর উপর কাজ করা ছেড়ে সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশন উপর কাজ শিখি।

সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশন (SEO) এর কাজ ওডেস্ক-এ একটা বায়ার আমাকে অনুরোধ করে যে আমি উনার কাজ করি এবং সে আমাকে গাইড দেবে, বায়ারটি ছিল চাইনিজ এবং উনার নিজের একটা কার পার্টস এর ছোটখাটো কোম্পানি ছিল। উনি আমাকে প্র্যাক্টিকেলি কাজ শিখিয়েছেন এবং টাকা ও দিয়েছেন। এবং উনি আমাকে ফোরাম পোস্টিং সহ লিঙ্ক বিল্ডিং এর কাজ শেখান যেটা কখনোই ভুলতে পারিনা। তখন ১০০ টা ফোরাম পোস্টের দাম ছিল ১৬০ ডলার এর ও বেশি, আজকে সেটা দাঁড়িয়েছে স্পামযুক্ত ১০ ডলার এর ও কম। এছাড়া ও সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং টা উনি শিখাইছেন।

যায়হোক, অনেক উথান পতনের মধ্যে দিয়ে SEO & link building, blogging, affiliate marketing এর কাজ করে যাচ্ছি প্রায় ১৮ টা বছর।

হ্যা, আপনাকে এই কাজটিকে ভালবাসতে হবে, তাহলেই আপনি ভাল কাজ শিখতে পারবেন এবং ভাল কিছু করতে পারবেন ভবিষ্যতে।

মন্তব্য

ফেসবুক-এ ধুকলেই দেখি “ঘরে বসে টাকা আয় করুন ৫০,০০০ থেকে একলক্ষ টাকা সহজে এবং কোন ইনভেস্ট ছাড়াই।”

আমার প্রশ্ন হচ্ছে ওরা কেন ইনভেস্ট করে এই কথাটি ফেসবুক বুস্ট এর মাধ্যেমে আমাদেরকে জানাচ্ছে? ওরা কেন ঘরে বসে কামাচ্ছেনা, প্রতি মাসে যদি একলাখ টাকা আয় আসে তাহলে বছরে ১২ লাখ টাকা, ৫ বছর পর নিজের একটা আলিশান ঘর তুলা যায় অদের ইনভেস্ট ছাড়া কাজে।

বিদেশীরা টাকার বস্তা নিয়ে বসে আছে আমাদেরকে ফ্রিতে দেয়ার জন্য??? LOL 🤣🤣🤣

আর ও এমন কিছু ফেসবুক-এ বিজ্ঞাপন দেখি যা আমাকে আপনাকে পাগল করার মত। এতটাই অতিরঞ্জিত যে মাঝেমধ্যে আমার ও ওদের কোর্স নিতে ইচ্ছা করে “আমার ও কি ইচ্ছা করেনা একলাখ টাকা যদি এক্সট্রা ইনকাম আছে!!!” 🤣। ওদের কাছে বিদেশিদের টাকা মনে হয় গাছের পাতার মত।

তার আগে বলি – ভাবিয়া করিও কাজ, করিয়া ভাবিওনা। আমার কথা হচ্ছে “বুজিয়া করিও কাজ, করিবার পর যেন আপসোস নাহয়“।

ইনভেস্ট ছাড়াই যদি প্রতিমাসে একলাখ টাকা আয় করা যায় তাহলে আমি হয়তো ১৮ টা বছরে ১৮ টা বিল্ডিং করতে পারতাম। হ্যা, ইনভেস্ট ছাড়াই প্রতিমাসে একলাখ টাকার ও বেশি আয় করতে পারবেন, সেজন্য আপনার ও সেরকম যোগ্যতা লাগবে।

বিদেশীরা অনলাইনের মাধ্যেমে উনাদের প্রয়োজনীয় কাজ করায় নেয় কেন! কারন ওদের বিশ্বসেরা মানের কাজ লাগবে, এক্ষেত্রে আপনি এসএসসি অথবা গ্রাজুয়েশন করে কিভাবে সেটা আশা করবেন? আপনাকে অনলাইন জগতটাকে চিনতে হবে এবং ভালভাবে শিখতে হবে।

জন্মের পর থেকে কাজ কেউ শিখে জন্মায় না, আমিও জানতামনা। কাজ করে করে কাজ শিখেছি এবং এই ১৮ টা বছর শুধু আমার আরনিং এর বছর নয়, এগুলো আমার শিক্ষার ও সময়। আমি টেকনোলজি বিষয়টাকে ভালোবাসি, সেজন্য আমি এটার উপর পড়াশুনা করে এতটুকু আগাতে পেরেছি, আজকে আপনি হঠাত করে এসে ইনকাম শুরু করে দিলেন তাহলে ব্যপারটা একটু অন্যরকম দাড়ায়না?

হা, আপনি যদি ভাল কোন শিক্ষকের হাত ধরে কাজ শিখতে পারেন তাহলে আপনি আপনার ভবিষ্যৎ কে উজ্জ্বল করতে পারবেন, তবে ঐসব ভাওয়াবাজি থেকে দূরে থাকেন যারা আপনাকে টাকার গ্যারান্টি দিচ্ছে।

আমি যাদের টুকিটাকি কাজকে শিখাইছি তাদেরকে কখনো কোন গ্যারান্টি দিয়ে শিখাইনি, যারা মনযোগ দিয়ে শিখেছেন তারা কিছুনা কিছু করে চলতেছেন।

এখন কথা হচ্ছে আপনি কতটুকু নিতে পারবেন সেটাই হলো বিষয়!

error: Content is protected !!