ব্লগিং বা নিচ সাইট করার কথা ভাবছেন?

আসুন শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সংক্ষিপ্তভাবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক আলোচনা করি।

১) কেমন ডোমেইন নেম নিবেন

– Keyword বেইস অথবা ডাইরেক্ট Keyword দিয়ে ডোমেইন নেম নিবেন না, যতটুকু পারেন ছোট নাম সার্চ করবেন, যেমন আপনি কিছু Keywords নিয়ে কাজ করবেন সেটার গোটা বিষয়টাকে এক করে কি দাঁড়ায় সেটা দেখে নিন, তার আগে পরে patch, lab, expo, gear, hub, is এবং ইত্যাদি লাগাতে পারেন। তবে সেজন্য ২/৩ দিন সময় নিতে পারেন। এটা কিন্তু ইম্পরট্যান্ট (সেটা কতটুকু তা পরে বুজতে পারবেন)। যদি না বুজেন তাহলে ইনবক্সে শেয়ার করে জিজ্ঞেস করতে পারেন।

২) এবার হচ্ছে হস্টিং

– আপনি যদি প্রতি মাসে ২৫ ডলার ইনভেস্ট করতে পারেন তাহলে আমি wpx রিকমেন্ড করি, ব্লগিং করার জন্য এত ভাল হস্টিং লাগবেনা, তবে কোন প্রকার সমস্যা ছাড়া যদি সাইট স্পিড এবং র‍্যাঙ্কিং এর বিষয়টা মাথায় রেখে করতে চান তাহলে wpx। নেমচিপ হস্টিং ও ব্যবহার করতে পারেন নিচ সাইটের জন্য, তবে ওদের সার্ভারে কিছু কনফিগার আছে (প্রত্যেক শেয়ার সার্ভারে থাকে) যেগুলো সাইটের স্পিডের সমস্যা দেখা দিবে (shared hosting), আর এটা প্রত্যেক হস্টিং সার্ভিস প্রোভাইডার রা এটা কাস্টম কনফিগার করা দেয়না, shared hosting নিয়ে যদি সাপোর্ট-এ গিয়ে কথা বলেন থিক করে দেবেনা। সাধারণত “কেস হেডারস” সেট করা থাকে সার্ভার কনফিগারেশনে, এবং এটা পাস হয় সার্ভার টু সার্ভার ইভেন আপনি CDN ইউজ করেন তারপর ও সলিউশন নেই। প্রত্যেকটা সাইটের স্ট্যাটিক এসেট গুলো হচ্ছে CSS/JS/Image। এককথায় বলতে গেলে – The static files usually don’t change between pages; hence these can be cached in the browsers of website visitors, so page loads are usually quicker।

সলিউশনঃ “Cache Headers” need to be set to inform the browsers to store these files in their cache. একটা ছবিতে সেটার সমস্যা উল্লেখ করেছি। এটা আপনার ক্লাউড হস্টিং-এ করা থাকে, যদি করা না থাকে তাহলে আপনি সাপোর্ট-এ যোগাযোগ করে সেটা করাতে পারেন। wpx hosting-এ বলতে হয়না, এটা ওদের করা থাকে, কারন ওরা সাইট অপ্টিমাইজেশন-এর দিকটা চিন্তা করে ওরা হস্টিং প্রোভাইড করে। বাকিটা আপনার হাতে, কি ধরনের হস্টিং নিবেন।

৩) আর্টিকেল রাইটিং

আর্টিকেল কেমন দিবেন সেটা আপনি আমার চেয়ে ভাল জানেন, সুতরাং সেটা সম্পর্কে আলোচনা আর কি করবো! তবে র‍্যাঙ্কিং এর জন্য ইনফরম্যাটিব আর্টিকেল ত অবশ্যই দিবেন তার সাথে একটা ব্যপার খেয়ার রাখবেন সেটা হচ্ছে “Transition words, Passive Voice”, সেটা কি এবং কেন সে সম্পর্কে এই সাইটে উল্লেখ করা আছে – https://yoast.com/transition-words-why-and-how-to-use-them/,

এখানে ক্লিক করে মেইন সোর্স-এ যান
৪) সাইট স্পিড

– সাইটের স্পিডের জন্য ভাল ভাল অনেক আর্টিকেল ও র‍্যাঙ্ক পাইনা, আপনি আপনার সাইটে অনেক কিছু এড করেছেন সাইটের ইনফরমেশন এবং সুন্দরয্যের জন্য, তাতে সাইট থেকে বিভিন্ন ধরনের রিকুয়েস্ট আসবে যখন আপনার সাইট কেউ ভিসিট করবে। উদারহরন হিসেবে আপনি ফ্রি-ফায়ার গেমটা আপনার একটা কম দামি মোবাইলে ইন্সটল করতে পারছেন, কিন্তু পাবজি মোবাইল ইন্সটল করতে পারবেন না, কারন পাবজি মোবাইল গেইমে অনেক সেটিংস আছে গেইমটা খেলার সুবিধার্থে, এজন্য এই গেইমের সাইজ অনেক বড়।

সাইট স্পিডের কথা ভেবে আপনি আপনার সাইটের সুন্দরয মুছে ফেলতে পারেন না, সাইটের ইনফরমেশন ও কমাতে পারেন না, আপনার উদ্দ্যেশই হচ্ছে সাইটের ইনফরমেশন এবং সুন্দরয বাড়ানো এবং র‍্যাঙ্কিং পাওয়ার জন্য। বিশেষ করে যখন এফিলিয়েট নিয়ে কাজ করবেন তখন আপনার সাইটের ব্লক (static header request) রিকুয়েস্ট বেশী আসবে, তখন আপনার সাইটের সাইজ অনেক বেশী হবে। সেজন্য আপনাকে এসব ব্লক গুলো কিভাবে কম্প্রেস করা যায় সেটা নিয়ে ভাবতে হবে, তবে কিছু কোড (css/java/image) আছে যেগুলো কম্প্রেস করলে সাইটের স্ট্রাকচার এর সমস্যা দেখা দেবে, ফ্রি অনেক টুলস আছে কোড কম্প্রেস করা যায়, কিন্তু সমস্যা বেশী, ট্রাই করতে পারেন যদি বিলিভ নাহয়।

একটা পেইজ/পোস্ট থেকে কি ধরনের রিকুয়েস্ট আসবে যখন কেউ ভিসিট করবে আপনার সাইটেঃ-

  • API links
  • RSD links
  • wlwmanifest link
  • Self Pingbacks
  • Shortern
  • jQuery migrate
  • Embeds
  • Emojis
  • Dashicons
  • Google maps
  • Lazy loading (images, iframes, videos, buttons)
  • post revisions
  • Autsave interval
  • Tweak heartbeat API
  • CSS, JS, Image
  • Ajax
  • WP expired transients
  • DB cache
  • Unused DB tables

আপনি কেস প্লাগিন ব্যবহার করে এসব সমস্যা থেকে কখনই পরিপূর্ণভাবে সমাধান পাবেন না।

তবে CDN ব্যবহার করে আপনি নিশ্চিত থাকতে পারেন আপনি যদি প্রতি মাসে ১০০-২০০ ডলার খরচ করতে পারেন। আর এক্ষত্রে ও কিছু সমস্যা আছে, যেমন সাইটের সাইজ অনেক বেড়ে যাবে, ডাটাবেইজ সাইজ অনেক বড় হবে, সেজন্য আপনি সার্ভার-এ অনেক সমস্যাই পরবেন যদি বিগিনার হয়ে থাকেন। এজন্য ওদেরকে একট্রা মাল দিতে হবে $$$$

সংক্ষিপ্তভাবে বলতে গেলে একটা মানুষকে চলতে গেলে যা কিছু লাগে (যেমনঃ জামা-কাপড়, জুতো, সেন্ডেল, টুপি, মেডিসিন, স্বর্ণ-অলংকার, প্রেমিকা, কনডম, পারফিউম এবং ইত্যাদি) তা সব একজাগায় পাবেন না।

ওয়েবসাইটের ক্ষেত্রে ও এরকম, একটা WP CMS কে এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যে এটার ভিতরে কিছুই নেই “create & publish” ছাড়া, সেজন্য আপনাকে সবি বাইরে থেকে ধুকাতে হবে ব্যবহারের এবং প্রয়োজনের তাগিদে।

আর এসব রিকুয়েস্ট যদি কম্প্রেস করতে চান তাহলে Perfmatters প্লাগিন ব্যবহার করতে পারেন, এটা দিয়ে সব হেডার রিকুয়েস্ট বন্ধ করতে পারবেন যেগুলো প্রয়োজন নেই, আর এসব রিকুয়েস্ট আপনি সার্ভার কিংবা সাইট থেকে কখনই বন্ধ করতে পারবেন না। আর এই প্লাগিন দিয়ে সবগুলোই বন্ধ করা যায় সহজে (উপরের যেসব রিকুয়েস্ট এর কথা লিখেছি) এবং সাইটের কোন সমস্যা ছাড়াই। আমি নিজেই এই প্লাগিনের উপর “impressed”. আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আপনার সাইট যত বেশী পুরোন হবে, যত বেশী কন্টেন্ট হবে তত বেশী ডাটাবেইজ সাইজ বাড়বে, আর ডাটাবেইজ সাইজ বড় হলে সেটা সাইট ভিসিটের ক্ষেত্রে স্পিডের সমস্যা দেখা দেয়, আমার একটা নিচ সাইটের ডাটাবেইজ সাইজ ১.৪৫ জিবি (গিগাবাইট) ছিল, Perfmatters প্লাগিন দিয়ে ডাটাবেইজ অপ্টিমাইজ করার পর মাত্র ৪৭ মেগাবাইট দাড়াইছে।

৫) মোবাইল এবং ডেস্কটপ রেস্পন্সিভ

আপনি অবশ্যই মোবাইল এবং ডেস্কটপ রেস্পন্সিভ থিম চয়েজ করেছেন!!! এক্ষত্রে আপনার ইকমারস/প্রোডাক্টস গুলো কি আর রেস্পন্সিভ হবে? যেমন ধরুন প্রাইজ বাটন, ইনফো বক্স, ওয়্যারফ্রেম, প্রাইজ টেবিল, প্রোডাক্টস টেবিল, হোবার বক্স, হিরো, হেডলাইন্স, কল-টু-একশন, এবং ইত্যাদি। ইনফরমেশনের এবং র‍্যাঙ্কিং এর বিষয় মাথায় রেখে অনেক কিছু এড করতে হয় একটা আর্টিকেল-এ, আর এসব সুবিধা ফ্রি থিম এবং ফ্রি প্লাগিনে পাওয়া যায়না, পাওয়া গেলে ও মোবাইল রেস্পন্সিভ হয়না যখন ইকমারস চিন্তা আসবে আপনার। এক্ষত্রে আপনি GenerateBlocks ফ্রি টা ব্যবহার করতে পারেন (all the best for free plugins market), প্রিমিয়াম-টাই কিছু সুবিধা আছে (আমি প্রিমিয়ামটা ইউজ করতেছি) যেটা ব্যবহার করলে বুজতে পারবেন, এটার স্পেশালিটি হচ্ছে আপনি আপনার সাইটের ডিজাইন পুরোই বদলাতে পারবেন, এবং আপনি আপনার আর্টিকেল এ ১০,০০০+ ব্লক ইউজ করেন তারপর ও স্পিড টেস্টে ১১ থেকে ১২ কেবির বেশী সাইজ আসবেনা। যেটা অন্য প্লাগিনে এতগুলো ব্লক ইউজ করলে আপনার মাথা খারাফ হয়ে যাবে। যেমন আমার হয়েছে একটা সাইটে, ৩০০ ডলার খরচ করে একটা প্লাগিন কিনেছিলাম এসব সুবিধা চিন্তা করে, ২৫টা প্রোডাক্টস এড করেছিলাম একটা আর্টিকেল-এ, স্পীড টেস্টে ১৭% দেখায়। এখন মাত্র ৩৯ ডলার খরচ করে আমার সাইটের স্পীড ৯০% এর বেশী থাকে।

আপনার সাইট স্পিড ৯৫%++ মোবাইল স্পিড, এবং ডেস্কটপ স্পিড ৯৯%+ সবসময় থাকবে, আর ব্লক যদি কম থাকে (যেমন ৩০০ ব্লক) তাহলে অবশ্যই ১০০% স্পিড দেখাবে google pagespeed insights এ। উদাহরণ স্বরূপ আমার একটা সাইটের আর্টিকেল-এর ব্লক সংখ্যা দেখুন এবং স্পীড স্কোর দেখুন (ইমেইজ এটাচড করে দিছি)।

আমার হিসেব অনুযায়ী একটা সাইট বানাতেঃ- ডোমেইন ১২ ডলার, ফ্রি থিম, ২৫ ডলার হস্টিং, ২৫ ডলার Perfmatters প্লাগিন, ৩৯ ডলার GenerateBlocks pro প্লাগিন, Total $101 for starting (without articles).
মাসিক খরচ শুধুমাত্র ২৫ ডলার হস্টিং-এ। আর লাইফটাইম ইনভেস্টমেন্ট।

error: Content is protected !!